রিফাত হাসান পইড়া কি হবে?

সালাহ উদ্দিন শুভ্র

সালাহ উদ্দিন শুভ্র

সালাহ উদ্দিন শুভ্র

এবারের বইমেলা জুড়েই আলোচিত বইয়ের তালিকায় শাহবাগ সম্পর্কিত বই বেশ কয়েকটাই আছে। এইটাই স্বাভাবিক। মতিঝিল তরফের কোনো বই আসবে না তা জানা কথা। কিম্বা ইসলামিস্টদের বইও পাওয়া যাওয়ার কথা না। কেউ লিখলেও সেটা আমার নজরে আসবে না। আমি প্রগতিশীল ঘরানার মানুষ। তাদের সঙ্গেই আমার উঠ-বস। শাহবাগ বিষয়ক আমার কড়া সব ক্রিটিক তারা পছন্দ করেন না। আমার প্রতি যে কারণে অনেকের আন্তরিকতা কইমা গেছে। লাইক দেয় না ফেসবুকে। নানারকম নিন্দা করে। তর্ক করে যার উদ্দেশ্য আমি যে হেফাজতি বা জামায়াতি তা প্রমাণ করা। আমার ব্যক্তি জীবনের বন্ধু, ব্লগের বন্ধু, পরিবারের লোকেদের সঙ্গে এসব নিয়া আমার লগে বেধে যায় মাঝে মাঝেই। আমি কিছুটা পিছু হটি, চুপচাপ থাকি। শাহবাগ অনেকেরই সুখানুভূতি, শাহবাগ নিয়া তাদের ভাবতে ও বলতে ভাল্লাগে। মানুষের সুখানুভূতি নষ্ট করতে আমার ধর্মে নিষেধ আছে।

 

ফলে বইমেলা ঘুরে ঘুরে সেই প্রগতিশীল কর্মীদের, সমর্থকদের ভিড়ে মাঝে মাঝে নিজেরে অভ্যাগত মনে হইতে থাকে । প্রগতিশীলদের মৌলবাদিতার মধ্যে একটু ফুসরত খুজতে চাই যে কারণে। এবারের মেলায় ‘সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি’ তেমনই এক ফুসরত বলতে পারেন। রিফাত হাসানের লগে আমার বন্ধুত্ব আছে বা নাই। দুইটাই বলা যায়। লেখালেখির একটা সম্পর্ক আছে আরকি, যোগাযোগ আছে। পরস্পরের যোগাযোগের যে মাত্রা, বুঝাপড়া মিলায়া কাউরে বন্ধু বলা যায় সেটা রিফাতের লগে আমার নাই।দেখাও ঘটে নাই কখনো। ফেসবুক বন্ধু বলা যায় তারে। একটা কনশাস নজরদারি আছে আরকি। প্রগতিশীল ঘরানার বাইরের বইলা মনে হয় এমন একজন লেখক বা চিন্তক কিম্বা ব্লগার হিসেবে রিফাতের রচনা আমার বিবেচনায় ‘ভিন্নমত’। এইটারে চিন্তার সেন্সিটিভিটি বলা যায়। অবশ চিন্তা যেমন একই রকম মতাদর্শে নিজের পুষ্টি পায় বইলা ভাবে, বা রোগী যেমন একই খাবার বারবার খায় আরোগ্যের আশায়। চিন্তার সেন্সিটিভিটি তেমন না। সে নতুন কিছু, আলাদা কিছু খুঁজে। রিফাত হাসান হেফাজতি কিম্বা ইসলামিস্ট না তবে সেই ভিন্ন কিছু। তার লেখার এবং মতের টেস্ট আলাদা। থোড়বড়িখাড়া কিম্বা খাড়াবড়িথোড়ের মধ্যে তিনি যে কারণে ভিন্ন স্বাদ হিসাবে জিহবায় ঠেকে।

সমাজে রিফাতেরও জামায়াত পরিচিতি আছে। দুই-একজন অন্তত আমারে তা-ই বলছেন। ফলে এখানে আমার অভিজ্ঞতার লগে তার মিলে যায়। স্পেসজনিত নৈকট্য তৈরি হয় একটা। প্রগতিশীলদের জায়গা দখলের কর্মকান্ডে এমনভাবে যাদের কাছাকাছি পাইছি রিফাত তাদের একজন। একগাদা প্রশ্ন নিয়া হাজির হবে আপনাদের কাছে। ধান ভানতে গিয়া শিবের গীত গাইতে হবে কেন এমন প্রশ্ন তুইলা আপনি তারে হেলা অথবা নাকচ করতে চাইবেন। বেলাশেষে এসব প্রশ্নই জাতির ঘাড়ে চেপে থাকবে।

 

‘সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি’ বইটা শাহবাগের স্বপ্নদোষ থেকে মুক্ত। যে কারণে তা সম্ভাবনাময়। চিন্তার খোরাক। রিফাতের ভাষা হয়তো পছন্দ হবে না, তারে এনার্কিস্টও মনে হইতে পারে পাঠকের। মনে হইতে পারে সে ইসলামিস্ট। কিন্তু আসলে এসব গ্রুপবাজির খাসলত বাদ দিলে রিফাতরে নিকটজনই মনে হবে। শাহবাগ নিয়া না লিখলেই বা সমালোচনা করলেই সে ভিন্ন মতের হয়ে যায় না। একগাদা শাহবাগপন্থি বইয়ের লগে তাই রিফাতের তর্কপন্থি বইটাও কেনা দরকার।

 

ফেসবুকে লেখাটার লিঙ্ক

No Comments Yet.

What do you think?

Your email address will not be published. Required fields are marked *