কনসেনসাস

অথবা, আপনি সামাজিক হতে পারেন। জল্লাদ।/ কনসেনসাস, রিফাত হাসান, জুলাই ১৫,২০১৫

ফেসবুক খুলে দেওয়ায় আমি কিছুটা হতাশ। এই সময়ে আমরা যা করতে পারতাম, তা হলো, তরুণদেরকে আহ্বান জানানো, আপনারা অনলাইনে যা যা করতে ভালবাসতেন, তা অফলাইনে করতে ভালবাসতে শিখুন। একই সাথে, ফেসবুক বন্ধের এই ঘটনা নিয়ে যে হিস্টিরিয়া দাঁড়াইছিল, তাও বাড়তে দেওয়া জরুরি। একটা পরিণতির জন্য অপেক্ষা। আমার মতামত ছিলো, ফেসবুক বন্ধ থাকুক। পারতপক্ষে নেটও বন্ধ থাকুক। মানুষজনের অফলাইনে মেলামেশা জরুরি। বাস্তবে, সমাজে। যাতে, সম্পর্ক ও সমাজ সপ্রাণ হয়ে ওঠে। কারণ, এখান থেকেই রাজনীতি তৈরী হয়। আর, এই সময়ে, আমাদের সমাজে সব কিছুর বিনিময়ে একটু রাজনীতি দরকার।
হাঃ, হলো না।

তবে, একটা কালেকটিভ কনসেনসাস দারুণ ব্যাপার। আমাদের ভেতরে বেশ কিছু কনসেনসাস তৈরী হইছে।

যেমন, কৌতুক দিয়ে শুরু করতে পারি। এই সময়টি কীভাবে উদযাপন করবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে আমরা কৌতুক করার কথা বলেছিলাম এক সময়। সেটি ছিল, আমাদেরই উদযাপন। কিন্তু, কৌতুক এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে বটে সবখানে। সরকারেও এর আছর পড়েছে। মানে, কৌতুক করবার ব্যাপারে সরকারের সাথেও আমাদের একটা কনসেনসাস তৈরী হলো আর কি।

অবশ্য, বোকা কৌতুক আমাদের বিষয় ছিল না। তারপরেও, যদি বাছ বিচারে আসি, এইটারে আমি পছন্দই করেছি। কারণ, এই জাগায় আইসা আমাদের কৌতুকরে সফল বলা যায়। কৌতুকের একটি জরুরি উপাদান হচ্ছে বিভ্রান্তি তৈরী করা। কৌতুকের রাজনীতিও সেটিই। তাই, শত্রুপক্ষের বোকা কৌতুকও আমাদের উদযাপনেরই বিষয় বৈকি। যেমন ফেসবুক বন্ধ হল, এবং খুলে গেল। আমরা এই মহাবৈশ্বিক ব্যাপারগুলোরে উদযাপন করতে বসলাম এবার।

প্রথমত, ধরুন, ফেসবুক খুলতে সরকারের মন্ত্রীদের দেনদরবারগুলো।

ফেসবুক কীভাবে বন্ধ রাখা যায়- ঠিক তা নয়, কীভাবে খোলা যায়, এটিই সরকারের, বিশেষত তরুণ মন্ত্রীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল, আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন কি? কারণ তাদেরও বয়স কম, তারা ইদানীং প্রযুক্তি বিষয়ে শিখছেন, মন্ত্রীত্বের বদৌলতে, আগে হয়তো মাঠে ঘাটে উদিচী বঙ্গবন্ধু করে বেড়াতেন। জাতে তো বাঙ্গাল ছিলেন, এখন তালেও উঠার চেষ্টা করতে হয় বৈকি। যেমন ধরুন, মন্ত্রী হেতু, একটি রেডিমেইড ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেইজ, দুয়েক হাজার ফলোয়ার, কর্মীদের লাইক, বাউ- এইসব কম কীসে। সেইসবের মায়া এত অল্পে ছাড়া তো যায় না। মজার ব্যাপার হলো, তাদের এই ফেসবুক প্রীতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত ধীরস্থির ঠাণ্ডা মাথার মানুষকেও রাষ্ট্রের সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে কিছুদিন পুরো মন্ত্রীপরিষদ সমেত ফেসবুক ভাইভার হোয়াটসএপ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে বাধ্য করে।

হাঃ হাঃ, তাদের ভেতরে কেউ কেউ, প্রাক্তন সংস্কৃতিকর্মীও বটেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা- তথ্য অধিকার এইসব নিয়ে আগের সরকারগুলোর আমলে নানান অভিনয় নাটক করতেন।

সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ বইলা গলা ফাটায়, তখন এই বিকট নব্য তারুণ মন্ত্রীবর্গরেও ধর্তব্যে রাখছে। তবে কেন ফেসবুক বন্ধ করা হলো?

কারণ একমত একমত ফেসবুক তৈরীতে কর্পোরেট চুক্তিতে পৌঁছা, ফেসবুক বন্ধ করা নয়।

এখানে আওয়ামী সাইকোলজির একটা চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। যে কোন দৃশ্যমান মতভীন্নতাকে বরদাশত করতে অক্ষম হওয়া। মূলত, আওয়ামী লীগের দলীয় ও সামাজিক সাইকোলজি হল, এরা প্রকৃতিগতভাবে পরমত অসহিষ্ণু, ফ্যাসিস্ট। ফলত, আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিরা যত প্রযুক্তিবান্ধব হতে থাকবেন, তত এইসব নিয়ন্ত্রণ অথবা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত বন্ধ করতে পাগল হয়ে উঠবেন, খেয়ালে রাখতে হবে আমাদের। পারলে তারা, হা হা, দলীয় কর্মীদের বাইরে অন্য সবার জন্য ইন্টারনেটই বন্ধ করে দেন। নানান রকম উদ্ভট প্রস্তাবনা, যেমন ন্যাশনাল আইডি দিয়ে ফেসবুক আইডি ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা, ফেসবুকের সাথে চুক্তি, চিঠি পাঠানো, হুমকি-ধমকি- এমন কি কয়েকদিন আগে ভিপিএন ব্যবহারের দায়ে ধড়পাকড়ের ঘটনাতে এই মনোভঙ্গির প্রমাণ আপনারা পাইতে পারেন।

কারণ তারা অবাক হয়ে দেখছেন, যে কথাবার্তা তারা রাজপথে বন্ধ রাখতে পেরেছে অত্যন্ত সফলভাবে, একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করে, সেই কথাবার্তা এরা অবলীলায় এখানে বলে ফেলতে পারছে- সেই ঘটনা এরা সহ্য করবার মত উদার নন। ফলত ফ্যাসিস্ট মনহেতু, দৃশ্যমান মতভীন্নতার বিরুদ্ধে লাঠি সোটা বন্দুক ও পুলিশ নিয়ে বাস্তবের রাজপথের মতই তৎপর হয়।

খেয়াল করবেন, ‘দৃশ্যমান’ বলেছি। কারণ দেখবেন, মন্ত্রীদের হিস্টিরিয়া কিন্তু শুধু ফেসবুককে ঘিরে, ভাইবার হোয়াটসএপ কিন্তু তেমন নয়। কারণ ফেসবুকের মতভীন্নতা ‘দেখা’ যায়, ‘ভাইবার’ হোয়াটসএপের কথিত ‘ষড়যন্ত্র’ তেমন করে ‘দেখা’র উপায় নেই।

এখানে কৌতুক হল, ওরা হয়ত বেমালুম ভুলতে বসেছে, অভ্যাসবশত, এটি সরকারের জন্য সবচেয়ে অশির্বাদ হিশেবে হাজির আছে, সরকারের টিকে থাকার গোপন রহস্যও বৈকি। কীভাবে, সেটি বলছি।

আওয়ামীলীগের যা অর্জন বা বৈধতা, তা হল এই অনলাইনকে ঘিরে।

একটা ভার্চুয়াল কথাবার্তার অভয়ারণ্য তৈরী করতে পারা, যার কারণে কাউরে কিছু এক্সপ্রেস করতে হয় না বাস্তবে। অবদমন বিশেষ। আমরা সেই সময়েই এ বিষয়ে বলেছিলাম, যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে একটা সারবত্তাহীন অরাজনৈতিক তরুণ সমাজের প্রকল্প শুরু হইছিল, একে রোখা জরুরি বলেছিলাম। বস্তুত ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পযন্ত সময়ের ঘটনাঘটন পাঠ করলে আপনি বুঝতে পারবেন, কী ঘটে গেছে। একটা অথর্ব, বিলাসি তারুণ্য গড়ে উঠেছে, যার ইন্টারনেট স্পিড বা সেলফি আপলোডরে বাইরে আর কোন স্বপ্ন নেই। এই তারুণ্যই, এই ফেসবুক বা অনলাইনের স্বর্গই একটি দৃশ্যতঃ অবৈধ, জনসমর্থনহীন ও নিপীড়ক শাসক গোষ্ঠিকে বাঁচিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। এমন কি, যারা মনে করে, কিছু একটা করা দরকার, তারাও অনলাইনেই সবকিছু বলে কয়ে নিরাপদে কর্তব্য সাধন করে ফেলতে পেরে খুশি। এই অভয়ারণ্য ভাঙলে, লোকজন সমাজ ও রাজনীতির প্রয়োজন অনুভব করতে শুরু করবে আবার। আমি শুরুতে তার সম্ভাবনার কথা বলেছি। শাসকশ্রেণী কি এই অবস্থাটি বুঝতে পেরেছে?

আরো একটি কৌতুক হলো, ‘ইহাই রাষ্ট্রবিধি’ শ্রেণীর উদ্ভব। কৌতুকের এই কনসেনসাসটি মজার।

এক এগারর সময়ে তরুণ ও পেশাজীবীদের কোন কোন অংশ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তাদের অনেকেই পেশায় শিক্ষক, বা ছাত্র, কিন্তু ‘সেনাসমর্থিত’ সেই রেজিমের নিপীড়ণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরে কর্তব্য মনে করেছিল। তখন এই অংশটি সহজে শত্রু চিহ্নিত করতে সক্ষম হইছিল বলে মনে করা গেছে, সত্যিই কি তাই? শত্রু ও বন্ধু চিহ্ণিত করা, স্পষ্ট হয়ে ওঠারে আমি খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছি, বিশেষত পোস্ট শাহবাগ-হেফাজত সময়ে। কারণ এটি পথ স্পষ্ট করার সময়।

মজার ব্যাপার হলো, সেই সময়ে সেনাসমর্থিত শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে ও কারাগারে গিয়ে আলোচনায় আসারাই এই সরকারের আইন ও বিচারব্যবস্থার সমর্থনে ইহাই রাষ্ট্রবিধি বইলা শ্লোগান দিচ্ছে তৃপ্তির ঢেকুর সমেত। এইটা পুরোপুরি তাজ্জব বনে যাবার মতো কোন ঘটনা নয়, কারণ বাংলাদেশের সমন্বিত বুদ্ধিজীবীতার চরিত্রও ইহাই।

কথাবার্তায় নৈরাষ্ট্র, কিন্তু সুবিধামত বর্তমান সরকারের আইন ও বিচারব্বস্থার প্রতিশোধমূক অবস্থাকে ইহাই রাস্ট্রবিধি বইলা ওয়েলকাম জানানোর এই অবস্থারে আপনি কী বইলা সঙজ্ঞায়িত করবেন? সম্ভবত তখন আপনি তাদের এনার্কি ও রাষ্ট্র বিষয়ক ক্রিটিকগুলোরে ভাওতা হিশেবে বুঝে উঠতে আর অস্বস্তি পাবেন না।

আর একটি সমস্যা এখানে ঝামেলা তৈরি করছে, তা হলো বন্ধু ও শত্রুর উদ্ভট শ্রেণী ধারনা। পোশাকি মিলিটারি ব্যবস্থারে শত্রু হিসেবে দেখতে শেখা, অপরাপর অব্যবস্থা, যেমন দলীয় ব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতা ও বিচারব্যবস্থারে গনতন্ত্র ও অদম্য বইলা ভাবতে শেখা। এইটা আমাদের রাষ্ট্র, গনতন্ত্র ও অধিকার ধারনায় যে গুরুতর ফাজলকমো তৈরী করেছে, এই মুহূর্তে আমরা তার সুবিধা ভোগ করছি।

আমরা আরো একটি কালেকটিভ কনসেনসাসের ভেতরে আছি। খুন।

খুনি > খুনের দর্শক> বিচারহীনতা, ফাঁসি- একটি চক্রব্যুহচক্র। এই খুন, এর নীরব দর্শক, আবার দর্শকের উপভোগের নিমিত্তে যে ফাঁসি, তার তফাত কদ্দুর? প্রথমটিরে আপনি খুন বলবেন, যেহেতু আইন বহির্ভূত, দ্বিতীয়টিরে যদি বলেন ধর্ষকামিতা, শেষেরটি? খুন তো অনেক রকম ভাবেই হয়।

আমার মতে, ফাঁসি হলো খুনের কনসেনসাস।

কিছুদিন আগে, শিশু রাজন হত্যার ঘটনাটি অনেককে চমকে দিয়েছিল। এই ঘটনা আশপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিল। এবং, ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে দেবার কথা এসেছে। মানে, বার্ডস উইথ সেইম ফিদার্স এনজয় দা সেম। কিন্তু অভিজিত হত্যাকাণ্ডের সময়ে যারা দর্শক ছিলেন, তারা উপভোগ করেছিলেন? নিশ্চিত নয়, তবে সম্ভবত, ভয় পেয়ে বাঁচাতে এগিয়ে আসে নাই কেউ। নিশ্চিতই, ভয়ের ব্যবস্থাপনা।

মূলত, কৌতুক, ভয়ের ব্যবস্থাপনা ও খুনের কনসেনসাসই এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্র।

আবার, ফেসবুকে খুনের লাইভ ভিডিও দেখার পরে, অনেকেই রাজন প্রশ্নে উত্তাল। কিন্তু ফাঁসি চান। ফুকো যখন প্রকাশ্য জল্লাদখানার ফাঁসি ও কারা অভ্যন্তরে ফাঁসি নিয়ে বলেন, তখন রাজনের দৃশ্যটি কল্পনা করি। সব ধরণের খুনকে আপনি সমর্থন করেন, কিন্তু তার লাইভ প্রচার আপনি সহ্য করেন না। শুধু তাই কি?

এখন আসি অপরাধ ও বিচারের প্রশ্নে।

বিচার মানে কী? বিচারের কী উদ্দেশ্য হয়? বিচারের উদ্দেশ্য কি কেবলই এক ভয়ের ব্যবস্থা? একটি অটোক্রেটিক রাস্ট্রর পারপাস সার্ভ করাই কি বিচারব্যবস্থার কাজ? রাষ্ট্র বিষয়ে আমাদের বিবিধ ক্রিটিক স্বত্ত্বেও, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে একটি বিচার ব্যবস্থা কীভাবে চলবে, তার পর্যালোচনা করার নৈতিক দার্শনিক দায় লোপ হয়ে যায় না। ‘ইহাই রাষ্ট্রবিধি’ বইলা তারে এড়িয়ে যাওয়া হঠকারিতা বিশেষ। আমাদের সাম্প্রতিক তৎপরতা, বুদ্ধিজীবীতা ও আন্দোলন মূলত ভয় ও প্রতিশোধের ব্যবস্থা হিশেবে বিচারের এমন একটা প্রত্যয় ও তার বৈধতা তৈরীতে ভূমিকা পালন করেছে। বিচার একটা ইকুইলিব্রিয়ামের ধারনা। যেমন শেষ বিচার। যার উদ্দেশ্য জাস্টিস এনশিওর করা।

অপরাধ ও বিচার একটি ভয়ের ব্যবস্থা তৈরি করলে, এর উদ্দেশ্য পুরন হয় না।

স্রেফ ভয়ের ব্যবস্থা হিশেবে যদি বিচার ও শাসনব্যবস্থা নিজেরে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন জনবিদ্রোহ হয়। ধরুন, একটা থানা, যার অধীনে মাত্র ত্রিশ জন পুলিশ ফোর্স কাজ করে, সেই এলাকার কয়েক লাখ লোক কি শুধু পুলিশ বা বলপ্রয়োগের ভয়ে অপরাধে কম জড়ায়? নাকি আরো কিছু আছে? ধর্ম, নৈতিকতা, সেকুলার এথিকস? সে যাই হোক, ত্রিশ জন লোকের থেকে নিশ্চিতভাবেই কয়েক লাখ লোকের শক্তি বা সম্ভাবনা অনেক বেশি। জাস্টিস এনশিওর হচ্ছে, জনগনের ভেতরে এই ভাবই রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার বৈধতা জারি রাখে। শক্তি নয়।

আমি মনে করি, বুদ্ধিজীবী হিশেবে আমাদের কাজ হলো, রাষ্ট্রের এই দায় মনে করিয়ে দেওয়া।

কিন্তু, ফাঁসি আর বিচার, বা বিচার আর প্রতিশোধ- এইসবরে সমার্থক হিসেবে হাজির করার যে প্রবনতা ও বুদ্ধিজীবীতা, তার বিস্তার ঘটছে। শাহবাগ এই বিকৃতিরে মার্কেটিং ও পপুলার করেছে। এর ফলাফল যা দাঁড়াল, এখন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় ফাঁসি, আস্তে আস্তে বিচারের সমার্থক হয়ে উঠেছে। ফলত, রাষ্ট্র সেই সুযোগ নিতে কসুর করছে না কোনভাবেই। একসাথে ২৯ জনের, মতান্তরে ৩০ জনের ফাঁসির রায় হইছে কয়েকদিন আগে। সবাই বিরোধী ছাত্রদলের নেতা। যেন, রাষ্ট্র মানেই খুনের জল্লাদখানা। যারা মনে করেন, ফাঁসি শুধু যুদ্ধাপরাধ প্রশ্ন, তাদের জন্য এই ঘটনায় ইশারা আছে। বিচারের উদ্দেশ্য ফাঁসি, এমন একটা বিষয়ে সচেতন থেকেই, সম্ভবত গত কয়েকদিন আগে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যুদ্ধাপরাধ বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর থেকে জানতে চাইছেন, ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও ফাঁসি দেওয়ার কোন উপায় আছে কিনা।

এই জল্লাদখানার বিচারের ধারণারে রুখে দেওয়া জরুরি।

ছবি: The Death of Socrates (French: La Mort de Socrate)/ Artist: Jacques-Louis David/ Year: 1787/ Type: Oil on canvas

No Comments Yet.

What do you think?

Your email address will not be published. Required fields are marked *